Religion News

যে চার তাসবিহ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়

যে চার তাসবিহ – তাসবিহ পাঠ করার সময় অনেকেই অনেকভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে থাকেন, তবে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি। তা হলো-

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি, তার যে কোনটি দিয়েই শুরু করাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই। আর তা হলো,

سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার

আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ। সালাতুত তাসবিহ, তাসবিহের নামাজ নামেও পরিচিত। এই নামাজে তিনশতবার তাসবিহ পাঠ করা হয়। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবাহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’ এ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবিহ পড়ানো হয় তাই সালাতুত তাসবিহ।

হাদীস শরীফে ‘সালাতুত তাসবিহ’র অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। এই নামাজ পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়াব পাওয়া যাবে। সালাতুত তাসবিহ বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো নয়। আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) তার অনুসারীদেরকে এ নামাজ পালনে উৎসাহিত করছেন। জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেন এ নামাজ পড়ে সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই নামাজ সম্ভব হলে দৈনিক একবার, তা না হলে সপ্তাহে একবার, তা না হলে মাসে একবার, যদি তাও না হয় বছরে একবার পড়া উচিত। যদি এটাও সম্ভব না হয় তাহলে জীবনে একবার হলেও নামাজটা পড়ে নেবেন। বিখ্যাত ওলামায়ে কেরামদের মতে, বিপদ-আপদ এবং চিন্তার অবসানের জন্য সালাতুত তাসবিহের চেয়ে কার্যকর নামাজ আর নেই। সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ নামাজ চার রাকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোনো সুরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাজের বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ পড়তে হবে।

তাসবিহ: (اَكْبرُ سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ) উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

১ম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবিহ টি ১৫ বার পড়তে হবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত তিন আয়াত পড়ার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।

এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পরার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে।

এরপর রুকু হতে দাড়িয়ে গিয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” পড়ার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে।

এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।

প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।

এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।

তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, ( সুরা ফাতিহা পড়ার আগে তাসবিহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।)

অতপর ২য়রাকাত এর ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…” পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ২য় রাকাত এর মতো ৩য় এবং ৪র্থ রাকাত একই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে (তাসবিহ টি ১৫ বার পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) ।

কোন এক স্থানে উক্ত তাসবিহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নিবে। আর এই নামাযে কোন কারণে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সাজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবিহ পাঠ করতে হবে না। তাসবিহের সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙ্গুলের কর গণনা করা যাবে না, তবে আঙ্গুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।

পাঠকের মতামত:
Show More
Back to top button