National News

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ফিরোজায় বিএনপির শীর্ষ ৭ নেতা

ফিরোজায় বিএনপির শীর্ষ ৭ নেতা- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শীর্ষ ৭ নেতা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর রোডের বাসভবন ফিরোজায় যান তারা। এ সময় ফখরুলের সঙ্গে যাওয়া অন্য নেতারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

এদিকে বিএনপিপন্থী একটি চিকিৎ সক দলও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ফিরোজায় গেছেন। এরা হলেন- প্রফেসর ডা. এফএফ রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. আবদুল কদ্দুস, প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর ডা. সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

দীর্ঘ দুই বছরেরও অধিক সময় কারাগারে ব ন্দি থাকার পর দুই শর্তে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত হলে বুধবার বিকালে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর রোডের বাসভবন ফিরোজায় দীর্ঘ ৭৭৫ দিন পর প্রবেশ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার তার মুক্তির বিষয়ে আ ইনমন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডি কেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাস পাতাল থেকে বের হন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে তিনি সরাসরি গুলশানে নিজ বাসভবন ফিরোজায় যান।

যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?’
-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং শেখ হাসিনার নীলকণ্ঠ মানসিকতার পর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই দুটি লাইন যেকোন পাঠকের মনে পড়তেই পারে। শেখ হাসিনা একজন বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক সেটাতে যেমন স ন্দেহ নেই, তেমনি তিনি যে মানবিকতার সর্বোচ্চ শেখরে উঠেছেন- সে ব্যাপারেও স ন্দেহ থাকার কথা না। তাঁকে যারা হ ত্যা করতে চেয়েছিল, যারা তাঁর রাজনীতিকে ধ্বং স করতে চেয়েছিল, যারা তাঁকে বারবার বি পদে ফেলতে চেয়েছিল, তাদেরকেই তিনি বারবার ক্ষমা করেছেন।

এ যেন নীলকণ্ঠ পাখির মতো নিজের বি ষ গ্রহণ করে অন্যকে ক্ষমা করা। এটা একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ক্ষমা করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন যে, ক্ষমায় তিনি অতুলনীয়। তিনি যে তাঁর চ রম শ’ত্রুদের প্রতিও রা’গ-অনুরা’গ, বিদ্বেষের বশবর্তী হননা এই উদাহরণ তৈরি করলেন। অবশ্য এই উদাহরণ আজ কেন? এই উদাহরণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে দেখতে পারি।

আমরা যদি পেছনে ফিরে দেখি, ’৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হ ত্যা করার সময় সেনাপ্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ, বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন এ কে খন্দকার। তারা প্রত্যেকেই কাপু’রুষো’চিত ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতির পিতার র ক্তে উপর পা বাড়িয়ে বেতারে খু নী মোসতাককে সমর্থন করেছিলেন। অথচ শেখ হাসিনা তাদের ক্ষমা করেছিলেন। এই শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হয়েছেন একাধিকবার, এ কে খন্দকার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে শুধু এমপি হননি, মন্ত্রীও হয়েছেন। এটা বোধ হয় একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব।

শুধু শফিউল্লাহ গং কেন? ড. কামাল হোসেনের কথা যদি আমরা বলি? ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা র হস্যময়, তিনি এই হ ত্যার প্রতিবাদটুকু পর্যন্ত করেননি। এরপরেও ১৯৮১ দেশে ফিরে শেখ হাসিনা তাঁর চাচাকে কাছে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনীতির দাবায় ড. কামাল হোসেন বারবার শেখ হাসিনার কিস্তিমাত করতে চেয়েছিলেন, তবে সফল হননি।

৯১ সালের নির্বাচনের পর দলের ভেতর ক্যু করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ড. কামাল হোসেন চলে যান, কিন্তু তারপরেও শেখ হাসিনা তাঁর চাচাকে খাওয়ানোর জন্য ব্যাকুল থাকেন। এটা একমাত্র শেখ হাসিনার কাছেই সম্ভব। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বাকশালতন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে শেখ হাসিনাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, করেছিলেন অনেক কুকী’র্তি, মন্তব্য করেছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে আর যাই হোক রাজনীতি করা যায় না।

কিন্তু তারপরে আবারও শেখ হাসিনা ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে এনেছিলেন, এই উদারতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তো বটেই, বিশ্ব রাজনীতিতে আর কজনের ভেতর আছে- তা খুঁজতে ইতিহাস ঘাটতে হবে। ওয়ান ইলেভেনের সময় আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক, মুকুল বোসরা শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল, শেখ হাসিনা মাইনাস হননি; বরং বিপুল শক্তিতে আওয়ামী লীগের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও শেখ হাসিনা তাদেরকে ক্ষমা করেছেন, তাদেরকে দলে রেখেছেন, কয়েক দফায় মন্ত্রীত্বের আসনও দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা এমনই। হন্তারকদেরকে তিনি আপ্যায়ন করেন আর এই রাজনীতি বোধ হয় শেখ হাসিনাকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার আকাশসম উদারতার সবশেষ উদাহরণ হলেন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়াই শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করতে চেয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর মৃ ত্যুর দিন, যেটা জাতীয় শো’কাবহ দিন ১৫ই আগস্টে ভ ণ্ডামি করে মি থ্যা জন্ম উৎসব পালন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর খু নীদেরকে জিয়াউর রহমান কূটনৈতিক চাকরি দিয়েছিলেন, বেগম জিয়া ক্ষমতায় এসে তাদের পদোন্নতি দিয়েছিলেন। তিনি খু নী রশিদকে সংসদে নিয়ে এসে জাতীয় সংসদকে কল ঙ্কিত করেছিলেন। বেগম জিয়া হ ত্যার রাজনীতির পুনরুত্থান করে শেখ হাসিনাকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেখুন, ভাগ্যের কি নির্ম’ম পরিহাস! শেখ হাসিনার কলমে খোঁচায় বেগম জিয়ার ব ন্দিত্ব ঘুচেছে। শেখ হাসিনার একটি স্বাক্ষরে বেগম খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সময় পর মুক্ত বাতাস পেলেন। রাজনীতির এই উদারতার শিক্ষা দেশের রাজনীতিবিদরা কি নিবেন?

পাঠকের মতামত:
Back to top button