Miscellaneous News

মনিবের প্রতি ভালোবাসার মাত্রা দেখিয়ে দিলেন সেই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা

মনিবের প্রতি ভালোবাসার- দীর্ঘ ২৫ মাস পর সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নী তির মা মলায় কা রাগারে যাওয়ার পর অ’সুস্থতার কার ণে বেশকিছুদিন ধরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডি কেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎ সাধীন ছিলেন তিনি।

কা রাগারে যাওয়ার পর থেকেই খালেদা জিয়ার সার্বক্ষনিক স ঙ্গী ছিলেন গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম। বলতে গেলে খালেদা জিয়ার মতোই কারাবাস করেছেন। আজ বিএনপি নেত্রীরসঙ্গে মুক্তি মিলেছে তারও। খালেদা জিয়ার কারাজীবনের একমাত্র স ঙ্গী ৩৫ বছর বয়সী গৃহপরিচারিকা ফাতেমাও ফিরেছেন ফিরোজায়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সা’জা হয়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কা রাগারে ছিলেন ফাতেমা। পরে সবমিলিয়ে দীর্ঘ ৭৭৪ দিন খালেদা জিয়াকে স ঙ্গ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। বন্দির সঙ্গে গৃহপরিচারিকা থাকা নিয়ে রাজনৈতিক বি’তর্ক হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি থেকেছেন জেলে কিংবা হাস পাতালে।

তবে বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার আ ইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সঙ্গে ফাতেমাকে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন আ দালত। ঢাকার বিশেষ জজ আ দালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ওই আদেশ দেন।

শুধু কা রাগারেই নয়, অতীতে নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও ছায়ার মত খালেদা জিয়ার পাশে থেকেছেন এই ফাতেমা। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসির’ ডাক দিয়ে বাসা থেকে বের হতে গেলে পু লিশ যখন তাকে বাধা দেয় তখনো খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন ফাতেমা। এছাড়া ২০১৫ সালের শুরুতে টানা ৯২ দিন গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়া অবস্থানকালে তার স ঙ্গী ছিলেন ফাতেমা।

আর দীর্ঘ দিন পাশে থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো দেখভাল করা ফাতেমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে এর আগে দেশের বাইরেও গিয়েছেন। ব্যক্তি জীবনে খালেদা জিয়ার প্রতি নিবেদিত প্রাণ ফাতেমার একমাত্র ছেলে তার নানা-নানীর সাথে ঢাকায়ই থাকেন।

ফাতেমা বেগমের বাসা রাজধানীর শাহজাহানপুর। পরিবারে স্বামী এবং সন্তান রয়েছেন। দীর্ঘদিন থেকেই খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সেই সুবাদে শুধু গৃহেই নয় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দেশও সফর করেছেন তিনি। খালেদা জিয়া যেখানেই যান তিনি সঙ্গে থাকেন।

ভোলার বাসিন্দা ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় কা রাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎ সার জন্য আনা হলে সেখানেও আসেন ফাতেমা। কা রার’ক্ষীদের সঙ্গে তিনিও কেবিনে খালেদা জিয়ার সার্বিক দেখাশোনা করতেন।

হাস পাতালের চিকিৎ সকরা জানিয়েছেন, ‘ডায়াবেটিসসহ নানা রো গে আ ক্রান্ত খালেদা জিয়া রোজা রাখছেন। হাস পাতালের দেয়া খাবার খেতেন না। গৃহকর্মী ফাতেমা প্রতিদিন তার পছন্দের ইফতার তৈরি করে দিতেন।

মনিবের প্রতি ভালোবাসার মাত্রা দেখিয়ে দিলেন সেই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা

গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার আবাস্থল ‘ফিরোজা’য় থাকছেন ২০১০ সাল থেকে। তখন থেকেই গৃহপরিচারিকা হিসেবে সবকিছু দেখভাল করতেন ফাতেমা। ফাতেমার এই ত্যাগ নিয়ে অনেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আরিফুর রহমান তুহিন লিখেছেন, ‘২৫ মাস পর মুক্তি পেল স্বেচ্ছাবন্দী ফাতেমা।’

সাংবাদিক আফজাল বারি লিখেছেন, ‘মন্ত্রীত্ব, এমপিত্ব, বড় পদ বাগিয়েছেন, ব্যাংক, জাহাজ, কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক বনে গেছেন। কিন্তু যার মাধ্যমে পেলেন তার জন্য ত্যাগ কতটুকু করেছেন? ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি থাকতে দেব না’, ‘আমায় তোরা জেলে নে আমার মা’কে ছেড়ে দে’-এমন স্লোগান দিয়ে বোধকরি গলাটা ফাটিয়েই ফেলেছেন, কিন্তু এই নারীর চেয়ে ত্যাগী হতে পেরেছেন কি?

নাম তার ফাতেমা- স্বেচ্ছায় ব ন্দিত্ব বরণ করেছেন। স্বামী, সন্তান সংসার এবং যৌ’বনও তো তার আছে। মনিবের প্রতি ভালোবাসার মাত্রা কতো তার প্রমাণ তিনিই দেখিয়েছেন। জয় হোক ফাতেমাদের। মূল্যায়য়িত হোক ফাতেমারা।’

গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের ১ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাসা ‘ফিরোজা’য় ভাড়া বাসায় খালেদা জিয়া বসবাস করছেন ২০১০ সাল থেকে। তখন থেকেই গৃহপরিচারিকা হিসেবে খালেদা জিয়ার সবকিছু দেখভাল করতেন ফাতেমা। আজ বুধবার খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তার সঙ্গে ফিরোজাতেই যাবেন তিনি।

পাঠকের মতামত:
Back to top button