Miscellaneous News

ভালোবেসে সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার পরও কথা রাখেনি রাকিব

খুলনার মে’য়ে আসমা (ছদ্মনাম)। কি’শোরগঞ্জের রাকিবকে ভালোবেসে ঘর বাঁধতে চেয়েছেন। সরল বিশ্বা’সে তাকে ভালোবেসে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ভালোবাসা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। প্রতারক প্রে’মিকের ফাঁদে পড়ে আসমাকে নানা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। অধিকার আদায়ে সবকিছু ছেড়ে ছুটে যান কি’শোরগঞ্জে। তবুও দেখা পাননি প্রে’মিকের। পালিয়ে গেছেন প্রে’মিক রাকিবের মা-বাবাও।

অবশেষে পু’লিশের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাকে। সেখানেও মেলেনি সহযোগিতা। থা’না থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। গভীর রাতে ফেলে আসা হয় ঢাকায়।করো’নাভাই’রাস পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে তাকে কা’টাতে হয়েছে চারটি ভ’য়াল রাত। অবশেষে আইনি সহায়তা পেতে পু’লিশি সহযোগিতায় তাকে ঢাকার গুলশান থা’নায় পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রে’ম। প্রথম দেখাতেই রাকিবুল হাসানের প্রে’মে পড়েন খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজে’লার সিএনবি কলোনী এলাকার আসমা। প্রে’মিক রাকিব কি’শোরগঞ্জ সদর উপজে’লার কামালিয়ারচর গ্রামের মতিউর রহমানের ছে’লে। তিনি ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্র।

আসমা বিজেএমসি খুলনা জোনের কৃতি ক্রীড়াবিদ। হাই জাম্পের একজন খেলোয়াড়। বাবা-মা হারা আসমা বড় বোনের বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিনি।ইমুতে কলেজছাত্র রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয়। প্রায় দুই বছর ধরে তাদের স’ম্পর্ক। রাকিবের ডাকে খুলনা থেকে কয়েকবার ঢাকায় আসেন আসমা। রাকিবও খুলনায় বেড়াতে যান প্রে’মিকার বাড়িতে।

সিদ্ধান্ত হয় বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন দুইজন। বিয়ের প্রলো’ভনে ঢাকায় তাদের শারীরিক স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিয়ের জন্য চাপ দিতেই বেরিয়ে আসে রাকিবের আসল রূপ। কয়েক মাস ধরে আসমা’র সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রাকিব। বারবার চেষ্টা করেও রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না আসমা।

খবর পান প্রে’মিক রাকিব বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ৭ জুন কি’শোরগঞ্জে রাকিবের বাড়িতে চলে আসেন আসমা। খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান প্রে’মিক ও তার বাবা-মা। সবশেষে রাকিবদের তালা দেয়া ঘরের বারান্দায় অবস্থান নেন আসমা।চরম বিপাকে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। সহযোগিতা চান কি’শোরগঞ্জ উপজে’লা সদরের বিন্নাটি পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইস’লাম বাবুলের।

চেয়ারম্যান আজহারুল ইস’লাম বাবুল বলেন, মে’য়েটির বিপদের কথা শুনে আমি রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তাদের ঘরে তালা দেখতে পাই। বিষয়টি কি’শোরগঞ্জ থা’না পু’লিশকে জানাই।আসমা বলেন, আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছি। নিজের সাধ্যমতো তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তাকে বিশ্বা’স করেছি কিন্তু কথা রাখেনি। বিয়ে করবে বলে শারীরিক স’ম্পর্কে বাধ্য করেছে রাকিব। এরপরই কে’টে পড়ল। বাধ্য হয়ে করো’নার মৃ’ত্যুভ’য় মা’থায় নিয়ে কি’শোরগঞ্জে আসি।

তিনি বলেন, ৮ জুন ঘটনাস্থলে এসে আমা’র সঙ্গে কথা বলে চলে যায় পু’লিশ। কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ৯ জুন বিকেলে চেয়ারম্যান আজহারুল ইস’লাম ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আসাদকে দিয়ে আমাকে কি’শোরগঞ্জ থা’নায় পাঠান। আমি প্রতারণার বিষয়টি বর্ণনা করে রাকিবুলের বি’রুদ্ধে মা’মলা করার কথা বলি। কিন্তু থা’নার ওসি আমাকে বাইরে অ’পেক্ষা করতে বলেন।

আসমা’র ভাষ্য, ‘ওসির কথামতো থা’না ক্যাম্পাসে লিচু গাছের তলায় বসে অ’পেক্ষা করছিলাম। সন্ধ্যায় রাকিবের মামা ও আরও দুই সহযোগী রাকিবের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। গভীর রাতে আমাকে ঢাকার সায়েদাবাদে নামিয়ে দেয়া হয়। সারারাত সেখানে অ’পেক্ষার পর ১০ জুন দুপুরে আবারও কি’শোরগঞ্জ এসে রাকিবের বাড়িতে উঠি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে ওই দিন (১০ জুন) আমাকে থা’নায় নিয়ে যায় পু’লিশ।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কি’শোরগঞ্জ মডেল থা’না পু’লিশের ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ওই দিন কোন ধারায় মা’মলা করা যায়- এ নিয়ে সার্কেল এসপির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাই মে’য়েটিকে বাইরে অ’পেক্ষা করতে বলেছি। পরে আর তাকে খুঁজে পাইনি। পরে গ্রামবাসীর কাছে খবর পেয়ে রাকিবের বাড়ি থেকে মে’য়েটিকে উ’দ্ধার করি।

এ বিষয়ে কি’শোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি শোনার পর থা’নার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।মাসুদ আনোয়ার বলেন, মে’য়েটির সঙ্গে প্রতারণা করেছে রাকিবুল। বিয়ের কথা বলে ঢাকায় তাকে ধ’র্ষণ করেছে। ঘটনাস্থল যেহেতু ঢাকার গুলশান এলাকার, তাই কি’শোরগঞ্জ থা’নায় একটি অ’ভিযোগ রেখে মে’য়েটিকে ঢাকার গুলশান থা’নায় পাঠানো হয়েছে।

কি’শোরগঞ্জ সদর মডেল থা’না পু’লিশের পরিদর্শক (ত’দন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে থা’না পু’লিশের এসআই আসাদের নেতৃত্বে পু’লিশের গাড়িতে করে মে’য়েটিকে ঢাকার গুলশান থা’নায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, আসমা’র বাড়ি আসার খবরে তিনদিন পালিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার নিজেদের বাড়িতে ফেরেন রাকিবের বাবা-মা।তারা জানান, মে’য়েটি বাড়িতে চলে আসায় ঝামেলা এড়াতে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। ছে’লের প্রে’মের বিষয়টি আম’রা জানতাম না। আম’রা মে’য়েটিকে কোনোদিন দেখিনি।

পাঠকের মতামত:
Show More
Back to top button