Miscellaneous News

পাত্রী দেখেও বিয়ে করা হলো না জসিমের

বিয়ে করা হলো না জসিমের- সব ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতো জসিম উদ্দিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্ম ম পরি’হাস বিয়ে করা হলো না তার। ঘা তক ট্রাক কেড়ে নিয়েছে প্রা’ণ। একা নয় সাথে আপন ছোটভাইও দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।

গত শনিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতী জাঙ্গালিয়া এলাকায় ট্রাক-হিউম্যান হলার মুখোমুখি সংঘ র্ষে দুই সহোদরসহ অন্তত ১৫ জন নিহ তের ঘটনায় পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে শো’কের ছায়া নেমে এসেছে।

বটতলী মোটর স্টেশনের মোবাইল কর্ণারের দোকানদার তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লোহাগাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আমার পাশেই দাঁড়িয়ে জামায়াতে এশার সালাত আদায় করেছে জসিম। পরে অফিস বন্ধ করে ছোট ভাই বেলালকে সাথে নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়।

পথিমধ্যে দুর্ঘ টনার ক বলে পড়ে। জসিম আমাদের বিল্ডিংয়ে ঐতিহ্য কম্পিউটার নামে একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালাতো। পাশাপাশি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করতো। সম্প্রতি বিয়ের প্রস্ততি নিয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক পাত্রীও দেখা হয়েছিল।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার আইডির ইউজার নেম ছিল নীর জসিম। আজ যেন সত্যিকার অর্থেই চিরদিনের জন্য আজন্ম নীরবতার পথে হাটলেন এই তরুণ। রোববার সারাদিন এলাকায় মুখে মুখে ছিল মর্মা ন্তিক সড়ক দুর্ঘ টনার কথা। এঘটনায় ঝরে গেছে ১৫ তাজা প্রা’ণ। জসিমের সহোদর তাওরাত হোসেন বেলাল ছিল হাফেজে কোরআন। সে তার বড় ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসতো। দুই সন্তানকে এক সাথে হারিয়ে অনেকটা বাক রুদ্ধ হয়ে পড়েছে মা-বাবা।

নিহ তদের বড় ভাই সাংবাদিক কাইছার হামিদ কান্নাগড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার মা-বাবার মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। দুই ভাইয়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহ তদের আ’ত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দাবি উঠছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহসড়ক চারলেইনে উন্নীত করার। এই মহাসড়কে লেগেই থাকে দুর্ঘ টনা। প্রায় প্রতিদিনই মা রা যাচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে জাঙ্গালিয়ার টেক এলাকায় কিছুদিন পর পর বড় দুর্ঘ টনা ঘটছে। কয়েকমাস আগেও সেখানে আটজন নিহ তের ঘটনা ঘটেছিল।

অভি যোগ উঠেছে, ফিটনেস বিহীন, লক্করঝক্কর মার্কা এই হিউমান হলারগুলো মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও পু লিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে চলতো এসব গাড়ি। এসব বন্ধে প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে নিহ তদের বেশ কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। রোববার সকালে লোহাগাড়া থা নার ডিউটি অফিসার দুলাল বাড়ৈ মোবাইলে বলেন, চুনতী জাঙ্গালিয়ার টেকের সড়ক দুর্ঘ টনায় নিহ ত সবার পরিচয় এখনো পাওয়া যায় নি। ঘটনাস্থলে ১৩ জন এবং পরে চিকিৎ সাধীন অবস্থায় হাস পাতালে আরো ২ জন সর্বমোট ১৫ জন নিহ ত হয় বলে নিশ্চিত করেন এই পু লিশ কর্মকর্তা।

তারা হলেন, চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনার আব্বাস উদ্দিনের পুত্র জসীম উদ্দিন (৩৩) ও তাওরাত হোসেন বেলাল (১৮), বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাদশা (৩৮), চকরিয়ার উত্তর হারবাংয়ের মৃ ত আমির হোছেনের পুত্র আবদুস সালাম (৭০), লোহাগাড়ার চুনতি মীরখিলের আবদুর রশিদের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৪০), বড়হাতিয়ার কুমিরাঘোনার আবদুল মাবুদের পুত্র মোহাম্মদ রুবেল (২০),

লোহারদিঘির জাফর আহমদের পুত্র জহির উদ্দিন (২৪), উত্তর কলাউজানের আবুল হোছনের পুত্র মোহাম্মদ এনাম (৪৪), অজ্ঞাত আবদুর রশিদ (৫০), নবী হোছাইন (৪০), লেগুনা চালক চকরিয়ার মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র ফরহাদ উদ্দিন (১৮) ও হেলপার খুটাখালী গর্জনীয়া পাহাড় এলাকার নূর মোহাম্মদের পুত্র মোহাম্মদ সুমন (১৫) এর পরিচয় পাওয়া গেছে।

এদিকে রোববার সকাল ১১টায় আজিজনগর এলাকার নিজ গ্রামে দুই সহোদর জসিম উদ্দিন ও তাওরাত হোসেন বেলালের নামাজে জা নাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারা দুইজনই বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ পত্রিকার সাবেক লোহাগাড়া প্রতিনিধি কাইছার হামিদের ছোট ভাই। করোনা পরিস্থিতিতে সর্ত কর্তার মধ্যেও জা নাজায় মুসল্লীর ঢল নামে।

পাঠকের মতামত:
Back to top button