Miscellaneous News

করোনা হাসপাতালের ভেতরে ফুসকা-চটপটি খেতে ভিড়

নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালটি বিশ্বের একমাত্র করোনা হাসপাতাল, যার অভ্যন্তরে কোভিড আক্রান্ত রোগী আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একসঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

করোনা হাসপাতালের আশপাশে কোনো জনসমাগম থাকার কথা না থাকলেও এই হাসপাতালটি হয়ে উঠেছে নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্রস্থল।

জানা গেছে, হাসপাতালের মধ্যেই রয়েছে নগরীর সবচেয়ে বড় চটপটি আর ফাস্ট ফুড আইটেমের বাজার! শুধু তাই নয়, আদা চা থেকে শুরু করে মালটা, তেঁতুল, জলপাই, তুলসীসহ নানা রকমারি চা খেতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ।

বিশেষ করে শুক্রবার (১৪ মে) ঈদের বিকাল থেকে গভীর রাত অবধি এই হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও বাইরে সমাগম ছিল কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। এমনকি ছোট্ট শিশুরাও দৌড়ে বেড়িয়েছে হাসপাতালের কমপাউন্ডে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল হরহামেশা এই সড়কের উপর দিয়ে আসা যাওয়া করলেও তাদেরও কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

দেখা গেছে, শুক্রবার ঈদের সন্ধ্যায় খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের (কোভিড হাসপাতাল) পুরো সড়কটি লোকে লোকারণ্য। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি অনেকেই এসেছেন পরিবার নিয়ে অবকাশ কাটাতে।

হাসপাতালের পাশের সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশত স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানগুলোতে তিল ধারণেই ঠাই নেই। ব্যবসার সুবিধার্থে রাস্তার দুই ধারে দেয়া হয়েছে শত শত প্লাস্টিক চেয়ার।

এখানে রয়েছে প্রায় দেড় ডজন চটপটির দোকান, ফাস্টফুড আইটেম দোকান রয়েছে প্রায় দুই ডজনের মতো। এছাড়াও আছে টি স্টল।

হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা গেল এক ভয়ঙ্কর চিত্র। মুখে মাস্ক লাগিয়ে হাঁটারত অবস্থায় একজন পুরুষকে মোবাইলে বলতে শোনা গেল, ঈদের দিনও সিটে শুয়ে থাকতে ভালো লাগছিলো না। তাই একটু হাঁটছি।

পরক্ষণেই তিনি রোগী কিনা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি উত্তর না দিয়ে সোজা চলে গেলেন হাসপাতাল অভ্যন্তরে। বুঝতে বাকি রইলো না তিনি একজন কোভিড আক্রান্ত রোগী।

হাসপাতালের ফ্লু কর্নারের পাশেই দৌড়াদৌড়ি করছিল কয়েকটি শিশু, যাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। এমনকি আড্ডায় ব্যস্ত অভিভাবকদেরও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

একটু ভিতরের দিকে গিয়ে দেখা গেল গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আড্ডা দিচ্ছে যুবকরা। বাতাসে পাওয়া গেল গাঁজার দুর্গন্ধ। আর একটু আঁধারে দেখা গেল গাছের গুড়িতে বসে আছেন কয়েক জোড়া প্রেমিকযুগল।

স্থানীয়দের চেয়ে বাইরের এলাকার মানুষ বেশি আসেন এখানে। সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৪০টি দোকান আছে এখানে। কিন্তু লকডাউনে করোনা হাসপাতালের সামনে কর্পোরেশনের উদ্যোগে কখনোই এখানে দোকানগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষা ড্রেনের উপর পৌরসভা আমলেই দোকান তৈরি করে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। এসব দোকান ছিল ওষুধের। কিন্তু পরবর্তীতে ৩-৪টি রেখে বাকিগুলো খাবারের দোকান করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, তারাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষ সমাগম হলে আমরা কি করতে পারি। আমাদের সিটি কর্পোরেশনে তো পুলিশ নেই।

সূত্র-যুগান্তর

পাঠকের মতামত:
Back to top button