Miscellaneous News

কিভাবে ঘূ’র্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়? আসতে চলা পরবর্তী ১৩টি ঘূ’র্ণিঝড়ের নাম

করো’না ভা’ই’রাসের আবহের মাঝেই বাংলায় ঝাঁপিয়ে প’ড়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন আমফান। এই ঘূ’র্ণিঝড়ের ফলে রীতিমত ওলটপালট হয়ে গিয়েছে বাংলার একাধিক গ্রাম, বি’ধ্বস্ত সিটি অফ জয়। মানুষ মা’থার ছাদ আর থালার ভাত হারিয়েছে।

বেশিরভাগ স্থানেই নেই কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ বা জল। এমন অবস্থায় আরও এক অশনি সংকেত দিল হওয়া অফিস। আমফানের ক্ষ’ত যখন তা’জা তখনই বাংলার জন্য বঙ্গোপসাগরে অ’পেক্ষা করছে আরও এক সাইক্লোন, যার নাম নিসর্গ। এটিও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।

ট্রপিক্যাল সাইক্লোন কিরকম হয়?

বঙ্গোপসাগরের তৈরি এই সাইক্লোনগু’লি ৯-১০ দিন সক্রিয় থাকতে পারে। এগু’লি সৃষ্টি থেকে তীব্র রূপ নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া আছে যা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ইমম্যাচিওর্ড, ম্যাচিওর্ড, ডিকে – এই তিন ধাপে সাইক্নোন তীব্র রূপ নেয়। সাইক্লোন সৃষ্টির মূল কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠতে তাপের সঞ্চার ঘটা।

ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নামকরণ কে করে?

ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নামগু’লির বেশির ভাগই নারীদের নামে। যেমন রিটা, ক্যাটরিনা, নার্গিস, সিডর, রেশমী, বিজলী। তবে ১৯৭৯ সাল থেকে পুরুষের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বর্তমান তালিকায় সমানভাবে পর্যায়ক্রমে মহিলা ও পুরুষের নাম রয়েছে। কোনও ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নাম দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না।

উত্তর ভা’রত মহাসাগর (৪৫ ডিগ্রি পূর্ব থেকে ১০০ ডিগ্রি গ্রীষ্মমণ্ডলীয়) বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূ’র্ণিঝড়গু’লির নামকরণ করে ভা’রত আবহাওয়া অধিদফতর বা IMD। এক্ষেত্রে সেই ঘূ’র্ণিঝড়গু’লির নামকরণ করা হয় যেগু’লি এই দুটি শর্তকে পূরণ করবে।

গতিবেগ অ’ন্তত ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার হতে হবে এবং বাতাসে অ’ন্তত ৩ মিনিট স্থায়ী থাকতে হবে।

অ’তীতে ঝ’ড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু এটি প্র’কাশের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।
উত্তর ভা’রতীয় মহাসগরীয় ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নামকরণ করে থাকে ভা’রতীয় আবহাওয়া বিভাগ। বাংলাদেশ, মিয়ানমা’র, ভা’রত, পা’কিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা এবং ওমানের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার একটি প্যানেল হচ্ছে এস্কেপে।

ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নাম কিভাবে দেওয়া হয়?

২০০৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই মহাসাগরগু’লির উপকূল অঞ্চলে থাকা আটটি দেশ প্রত্যেকে আটটি করে নামের প্রস্তাব দেয়। তারমধ্যে বিচার বিবেচনা করে সেই নামগু’লিকে চূড়ান্ত করা হয়। নামকরণের সময় মা’থায় রাখতে হয় এই নাম যেন কোনো জাতির সন্মান ক্ষুন্ন না করে বা মানুষের মনে আত’ঙ্কের সৃষ্টি না করে।

২০০৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত আটটি দেশ আটটি করে নাম দিয়ে ঝড়ের তালিকা তৈরি করেছিল। সেই নামকরণের তালিকার শেষতম ঝড় এই আমফান। সেই ঝড়ই বাংলার বুকে নিজে’র দাপট দেখিয়ে গিয়েছে। এবার নতুন তালিকা প্র’স্তুত করেছে ১৩টি দেশ। ১৩টি করে নাম দিয়ে তারা ১৬৯ টি ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের তালিকা প্র’স্তুত করেছে।

সেই হিসেবেই পর্যায়ক্রমে নাম পাবে পরবর্তী ঘূ’র্ণিঝড়গু’লি। সেই ক্রমানুসারে সুপার সাইক্লোন আমফানের পরে যে সাইক্নোন ধে’য়ে আসতে চলেছে, তার নাম নিসর্গ। ক্রান্তীয় ঘূ’র্ণিঝড়গু’লি এবার থেকে ২০২০ সালে প্র’কাশিত ১৩ সারি তালিকার নাম ব্যবহার করবে।

পরবর্তী ১৩টি ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নাম

নতুন তালিকায় ১৩টি দেশ আসন্ন ঘূ’র্ণিঝড়গু’লির ১৩ টি নাম দিয়েছে। দেখে নেওয়া যাক সেগু’লি কিকি এবং তার নামকরণ কোন দেশ করেছে।

ঘূ’র্ণিঝ’ড়ের নাম নামকরণকারী দেশঃ

নিসর্গ – বাংলাদেশ, গতি – ভা’রত, নিভা’র – ই’রান, বুরেভি – মালদ্বীপ, তকলি – মায়ানমা’র, যাস – ওমান, গুলাব – পা’কিস্থান, শাহীন – কাতার, জওয়াদ – সৌদি আরব

অশনি – শ্রীলঙ্কা, সিতরং – থাইল্যান্ড, ম্যানডৌস – আরব আমির শাহী, মোচা – ইয়েমেন

পাঠকের মতামত:
Back to top button