Health News

করো’নার নতুন যে উপসর্গ চিহ্নিত

নতুন যে উপসর্গ চিহ্নিত – বিশ্বব্যাপী চালাচ্ছে প্রা’ণঘা তী করো’না ভা ইরাসের তা ণ্ডব। চীন থেকে উৎপত্তি এই ভা ইরাস আরও ভ য়ঙ্কর রূপ নিয়েছে চীনের বাইরে। মৃ ত্যুপুরীতে পরিণত করেছে ইউরোপের দেশ ইতালিকে। এছাড়াও স্পেন, ফ্রান্স ও ইরানেও তা ণ্ডব চালাচ্ছে নতুন এই ভা ইরাস।

এতদিন করো’না ভা ইরাসে সং ক্রমিত হওয়ার যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল; তার সঙ্গে এবার আরও দুটি লক্ষণ বা উপসর্গ যোগ হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ঘ্রাণশক্তি ও জিহ্বার স্বাদ শক্তি লোপ পাওয়া। এই দুটি লক্ষণেও চেনা যাবে করো’নায় আ ক্রান্ত ব্যক্তিকে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ গবেষক দল নতুন এই লক্ষণের কথা জানিয়েছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট ও বিবিসি’র।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সর্দি, হাঁচি-কাশি, জ্বর, শ্বাসক ষ্ট, শ রীরে ব্য থা ছাড়াও করো’নায় আ ক্রান্তরা ঘ্রাণশক্তিহীন হয়ে পড়েন। কোনও বস্তুর ঘ্রাণ পান না তারা। সেই সঙ্গে তাদের জিহ্বার স্বাদ শক্তিও কমে যায়।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সেবার প্রধান জেরোমি সালমন বলেন, যাদের নাক বন্ধ নয় বা এ রকম কোনও রো গ নেই কিন্তু হঠাৎ করে কিছুর ঘ্রাণ পাচ্ছে না, তারা এই ভা ইরাসে সং ক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ব্যাপকহারে করো’নায় আ ক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে আ ক্রান্ত অনেকের অন্যসব লক্ষণ নেই কিন্তু তারা ঘ্রাণশক্তি হা’রাচ্ছেন।

টানা তিনমাস প্রা’ণপণ ল ড়াইয়ের পর করো’না ভা ইরাস মহামা রি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে চীন। টানা কয়েকদিন দেশটিতে নতুন করে কেউ আ ক্রান্ত হননি। তারপরও বেড়েছে রো গীর সংখ্যা। কা রণ, বিদেশফেরত নাগরিকদের শ রীরে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে প্রা’ণঘা তী এই ভা ইরাস। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব শিগগিরই চীন আরেক দফা মহামা রির মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎ সক।

নভেল করো’না ভা ইরাসের উৎস উহানে মহামা রি নিয়ন্ত্রণে যে মেডি কেল টিম কাজ করছে, এর নেতৃত্ব রয়েছেন প্রফেসর লি লানজুয়ান। বলাবাহুল্য, এই কাজে দারুণ সফল দলটি। তারপরও দুশ্চিন্তা দূর হয়নি। প্রফেসর লি বলেন, ‘বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংঝু, শেনঝেন ও হাংঝৌর মতো শহরগুলো অনবরত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে। আমি খুব উদ্বিগ্ন যে, বিদেশফেরত ঘটনাগুলো আমাদের দেশে আরও বড় মহামা রির সূত্রপাত করতে পারে।’

চায়না নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদেশফেরত সং ক্রমণ মহামা রি নিয়ন্ত্রণে তাদের কাজকে আরও ক ঠিন করে তুলছে। ৭৩ বছর বয়সী এ চিকিৎ সক বলেন, করো’না মহামা রি অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়া ঠে’কাতে আমাদের আরও ক ঠিন প্রচেষ্টা ও নিরলস কাজ করা অব্যাহত রাখা দরকার।

প্রফেসর লির ধারণা যে অমূলক নয় ইতোমধ্যেই তার নমুনা দেখা দিয়েছে চীনে। সম্প্রতি দেশটিতে বিদেশফেরত এক রো গীর সংস্প র্শে গিয়ে করো’না আ ক্রান্ত হয়েছেন গুয়াংঝুর এক চিকিৎ সক।

জানা যায়, ওই রো গী কিছুদিন আগে তুরস্ক থেকে ফিরেছেন। তাকে পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভা ইরাস আ ক্রান্ত হন ওই চিকিৎ সক। গুয়াংঝুর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এটাই বিদেশফেরত রো গীর সংস্প র্শে এ অঞ্চলে প্রথমবার কেউ করো’না আ ক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।

এ ধরনের সং ক্রমণ আরও বাড়তে থাকলে অচিরেই চীনজুড়ে আবারও ভ য়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ৩১ ডিসেম্বর উহানে প্রথমবারের মতো ধ’রা পড়ে নভেল করো’না ভা ইরাস।

এরপর দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা চীনজুড়ে, এরপর বাকি বিশ্বে। এ পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ১৯২টি দেশ ও অঞ্চলে করো’নার বিস্তার ঘটেছে। এতে আ ক্রান্ত হয়েছেন অন্তত সাড়ে ৩ লাখ মানুষ, মা রা গেছেন ১৫ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই আ ক্রান্ত ৮১ হাজার মানুষ, মৃ ত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৭০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় চীনে নতুন করে ৩৯ জন কোভিড-১৯ রো গী শনাক্ত হয়েছেন। এদের সবাই বিদেশফেরত।

পাঠকের মতামত:
Back to top button