Entertainment News

গায়ক নোবেলের বাবা করোনায় আক্রান্ত

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আলোচিত ও সমালোচিত উঠতি গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলের বাবা মোজাফফর হোসেন নান্নু।

মোজাফফর হোসেন নান্নু যুগান্তর প্রতিনিধিকে জানান, গত সপ্তাহে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নমুনা পাঠান তিনি। ঈদের দুদিন আগে তার রিপোর্টে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

শারীরিক অবস্থা এখন বেশ ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর পরই বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার সুস্থতার জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাই।

উল্লেখ্য, মোজাফফর হোসেন নান্নু বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ছেলে নোবেল এ প্রজন্মের তরুণ গায়ক। জি বাংলার রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’তে অংশ নিয়ে দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান নোবেল। প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফাইনালে উঠে আসেন তিনি। এ পর্যন্ত দুটি মৌলিক গান গেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু স্ট্যাটাস দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন নোবেল এবং পরে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য দেন।

বিতর্ক যেন কোনভাবেই পিছু ছাড়ছে না সারেগামাপা দিয়ে আলোচনায় আসা মাঈনুল আহসান নোবেলের। কিছুদিন ধরে নিজের গানের জন্য বিতর্কিত প্রচারণা করে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি এরপর র‍্যাব কার্যালয়ে গিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন এই উঠতি গায়ক।

এই সমালোচনার রেশ না কাটতেই জানা গেলো, ৭ মাস আগেই বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন নোবেল। সেই বিয়ের কাবিন নামাও এসেছে বাংলাদেশ জার্নালের কাছে।

ওই কাবিননামায় দেখা গেছে, ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর মেহরুবা সালসাবিল নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন নোবেল।

বর্তমানে সেই মেহরুবা সালসাবিলকে নিয়ে রাজধানীর নিকেতন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন নোবেল। ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত আছে নোবেলের এমন একাধিক ঘনিষ্ঠজনও নোবেলের এই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন।

নোবেলের এক ঘনিষ্ঠজন দাবি করেছেন, মেহরুবা সালসাবিলের সঙ্গে এটি নোবেলের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে রিমি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন নোবেল। তবে মতের অমিল হওয়ার সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। রিমিই ডিভোর্স দিয়েছিলেন নোবেলকে। এরপর এক আত্নীয় সঙ্গেও সংসার শুরু করেছিলেন নোবেল তবে সেই সম্পর্কেও বিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে নোবেলের এই বিয়ের প্রসঙ্গে খোঁজ নিতে নোবেলের জন্মস্থান গোপালগঞ্জেও যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার নোবেলের এক বন্ধু দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকে বেশ দুরন্ত নোবেল। প্রথমে এস.এম. মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও একটা ঝামেলায় জড়িয়ে স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলে ভর্তি হয় নোবেল।

তবে নবম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় এক নারীকেন্দ্রিক ঘটনায় তাকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর আর গোপালগঞ্জে সেভাবে দেখা যায়নি। আর নোবেলের বিয়ের প্রসঙ্গে স্থানীয় অনেকেই জানেন।

যদিও এসব প্রসঙ্গে মাঈনুল আহসান নোবেলের মন্তব্য জানতে নোবেলের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে একাধিকার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

গান গেয়ে যতটা না আলোচনায় এসেছেন তার চেয়ে যেন বেশি সমালোচনায় মাঈনুল আহসান নোবেল। শুরুটা জাতীয় সংগীত বিতর্ক দিয়ে। এরপর আলোচনায় কথিত প্রেমিকা কর্তৃক নিজের ন গ্ন ছবি ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে। এছাড়া গেলো বছরের সেপ্টেম্বরে চট্রগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছিলো নোবেলের বিরুদ্ধে। যদিও পরে এব্যাপারে কোন মামলা হয়নি সে সময়।

পাঠকের মতামত:
Back to top button