Entertainment News

বাবার স্মৃতি মাখা শহরে কফিন ছুঁয়ে কাঁদছেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে

আতর-গোলাপ সুরমা মেখে হিমঘরে শুয়ে আছেন এন্ড্রু কিশোর। দেখতে দেখতে ছয় দিন পেরিয়ে গেল। সবাইকে কাঁদিয়ে ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা গানের মহারাজ।

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এন্ড্রু কিশোর তার দুই সন্তানের খোঁজ নেন। বলে যান, হঠাৎ চলে গেলেও ছেলে-মেয়েদের শেষ দেখার জন্য যেন অপেক্ষা করা হয়। সেজন্যই এতো অপেক্ষা। মৃত্যুর পর কী কী করতে হবে সব পরিকল্পনা নিজেই করে গেছেন তিনি। এখন চলছে তারই বাস্তবায়ন।

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এন্ড্রু কিশোর তার দুই সন্তানের খোঁজ নেন। বলে যান, হঠাৎ চলে গেলেও ছেলে-মেয়েদের শেষ দেখার জন্য যেন অপেক্ষা করা হয়। হায়রে বাবা! মৃত্যুর পরও ছেলে-মেয়েদের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। মৃত্যুর পর যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় তার মরদেহ, সেই ইচ্ছাও প্রকাশ করে গেছেন।

রাজশাহীতে এলেই ছুটে যেতেন কবরস্থানে। মা ও বাবার জন্য প্রার্থনা করতেন। সেই সময় নিজের সমাধির স্থানটিও দেখিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তৈরি করা হয়েছে এন্ড্রু কিশোরের শেষ শয্যা।

এদিকে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ছুটে এসেছেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তক। রাজশাহীতে এসেই ছুটে গেছেন হাসপাতালে বাবাকে দেখতে। কফিনে মোড়ানো বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) সপ্তক ছুটে গিয়েছিলেন স্থানীয় গির্জায়। সেখানে একটি কাঠে কফিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। যে কফিনে শেষ বিদায় নেবেন প্রিয় এই শিল্পী। বাবার কফিন ছুঁয়ে দেখছিলেন সপ্তক। ছুটে গিয়েছিলেন সমাধি স্থলেও।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের কয়েকজন ও এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য মোমিন বিশ্বাস।

বাবার স্মৃতিমাখা শহরের বাতাসে মিলেছে যেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তকের বাবা হারানোর দীর্ঘশ্বাস। তার বাবা কোথায় ঘুরতেন, কোথায় বসতেন, কোথায় আড্ডা দিতে পছন্দ করতেন ঘুরে ঘুরে দেখছেন সপ্তক। ছুটে গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেও।

শহীদ মিনারের পাশে সবুজ ঘাসের ওপর বসতে পছন্দ করতেন এন্ড্রু কিশোর। ছাত্র জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবলিশ চত্বরে প্রচুর আড্ডা দিতেন। সপ্তক ঘুরে ঘুরে দেখছেন বাবার সেসব স্মৃতিবিজড়িত সেই সব স্থান। চোখের পানি লুকিয়ে এভাবেই নিজের কথাগুলো জানান সপ্তক।

এখন অপেক্ষা সপ্তকের বোন এন্ড্রু সঙ্গার জন্য। সঙ্গার দেশে ফেরার ফ্ল্যাইট চূড়ান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্র শুরু করেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৪ জুলাই রাজশাহীতে বাবার কাছে এসে পৌঁছবেন।

তিনি দেশে ফিরলে ১৫ জুলাই সমাহিত করা হবে এন্ড্রু কিশোরকে।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই সকালে প্রথমেই রাজশাহী শহরের স্থানীয় চার্চে নেওয়া হবে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ। সেখানে প্রার্থনা শেষ করে শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে নিয়ে যাওয়া হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে। ওই দিন বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টা ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনারে রাখা হবে মরদেহ।

এরপর তাকে নিয়ে আসা হবে রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠের পাশে খ্রিষ্টানদের কবরস্থানে। সেখানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় যাবেন এদেশের প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর।

পাঠকের মতামত:
Back to top button