Entertainment News

‘আমার ছবি দেখো, তাও ঘরে থাকো’

আমার ছবি দেখো – মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাস কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে। গত ৮ মার্চ এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশেও। এতে দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন, মারা গেছেন দুইজন। পরিস্থিতির লাগাম এখনই টেনে ধরতে না পারলে অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কিত চিকিৎসকরা।

এই সময়ে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় বাসায় থাকা। সারাবিশ্বের তারকারা আহবান জানাচ্ছেন সকলকে ঘরে থাকার জন্য। দেশীয় তারকারাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জনগণকে সচেতন করতে। মডেল নায়লা নাঈমও সোশ্যাল মিডিয়ায় আহবান জানিয়েছেন। নায়লা নাঈম নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বাসায় বসে বসে প্রয়োজনে আমার ছবি দেখো! তাও, Stay safe Stay home! জীবনটা আসলেই মহামূল্যবান!’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমিত হওয়ার আগে দেশে এখন পর্যন্ত ১৭ জন আক্রান্ত এবং ১ জন মারা গেছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ হাজার প্রবাসী ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টিনে রয়েছেন। করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গণপরিবহন পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্প্রতি যারা বিদেশ থেকে ফিরেছেন বা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের গণপরিবহন পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে অনুরোধ করেছেন।

কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লিসহ ভারতে ৮০ শহর লকডাউন

করোনা ঠেকাতে ‘জনতা কারফিউয়ের’ দিনেই গতকাল রবিবার (২২ মার্চ) ভারতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন। এনিয়ে মৃত্যের সংখা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই দিল্লিসহ ভারতের ৮০ টি শহরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভারতজুড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহূত ‘জনতার কারফিউ’ পালিত হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ কারফিউ চলে। এ সময় সারা দেশে সব ধরনের প্যাসেঞ্জার ট্রেন বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকে দূরপাল্লার ট্রেনও।

দক্ষিণ রেল, পশ্চিম রেল ও ইস্টকোস্ট রেলওয়ে তাদের অধিকাংশ ট্রেন বন্ধ থাকে। জনতার কারফিউকে কেন্দ্র গতকাল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ছিল কার্যত জনমানবহীন। পশ্চিবঙ্গের ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিটে সকালের দিকে কিছু লোকজন দেখা গেলেও পরে মানুষের চিহ্ন দেখা যায়নি। রাজপথগুলো ছিল সুনসান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে গোটা কলকাতা শহরে বেসরকারি বাস দেখা যায়নি। ধর্মতলার মোড়ে সকালের দিকে সরকারি বাস টার্মিনাসে কিছু মানুষের ভিড় করেন। তারা জরুরি কাজে কোথাও যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। একমাত্র তাদের জন্যই গুটিকয়েক দূরপাল্লার সরকারি বাস এদিন চলেছে। এছাড়া সকাল থেকে ধর্মতলা, ময়দান, চাঁদনী চক, পার্ক স্ট্রিটে কোনো চা-এর দোকানও খোলা পাওয়া যায়নি। মানুষ থেকেছেন ঘরবন্দী। অনেকেই বলেছেন, বড় মাপের বনধও এই বাস্তবতায় হার মেনেছে। এদিকে আজ থেকে ভারতের ৭৫টি জেলায় শুরু হচ্ছে লকডাউন।

একদিনের জনতা কারফিউ শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশ জুড়ে সব যাত্রীবাহী ট্রেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে কলকাতার মেট্রো পরিষেবাও। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতেই সমস্ত মেল, এক্সপ্রেস ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। তবে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করা হলেও রেলের পণ্য পরিষেবা জারি থাকবে।

পাঠকের মতামত:
Back to top button