Coronavirus

যে কা রণে করোনায় নারীদের তুলনায় পুরুষের মৃ ত্যু বেশি

নারীদের তুলনায় পুরুষের- বিশ্বজুড়ে এখন এক আ তঙ্কের নাম করোনাভাইরা স। বিশ্বে ১৮ হাজার ৮৯১ জন করোনাভাইরা সে আ ক্রান্ত হয়ে মা রা গেছেন। এখন পর্যন্ত মোট আ ক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৩।

এছাড়া চিকিৎ সা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন। বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকো’প ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করো’নায় আ ক্রান্ত ও মৃ তের সংখ্যা। তবে করোনাভাইরা সে আ ক্রান্ত ও মৃ তের ঘটনায় দেখা গেছে নারীদের চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি।

সম্প্রতি এক গবেষণা বলছে, করোনায় আ ক্রান্ত হয়ে নারীদের চেয়ে পুরুষদের মৃ ত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে। এর জন্য ধূ মপান, ম দ্যপান এবং দুর্বল স্বাস্থ্যকে দায়ী করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, পুরুষদের এসব অভ্যাসের কা রণেই তাদের মৃ ত্যু ঝঁ কি বেশি। অর্থাৎ করোনায় আ ক্রান্ত হয়ে মা রা যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষরা এগিয়ে আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরা সে আ ক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে এবং মৃ ত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। করোনার হা নায় ইউরোপের দেশ ইতালি যেন মৃ ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন করোনায় আ ক্রান্ত হয়ে মা রা গেছে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রা’ণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৮২০ জন। নতুন করে করো’নায় আ ক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ জন। ফলে দেশটিতে মোট আ ক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৬।

ইতালিতে করোনায় আ ক্রান্তের মধ্যে ৬০ ভাগই পুরুষ। এছাড়া করো’নায় আ ক্রান্ত হয়ে দেশটির ৭০ ভাগের বেশি পুরুষের মৃ ত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অপরদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে করোনায় আ ক্রান্তে এগিয়ে রয়েছে নারীরা। অর্থাৎ দেশটিতে পুরুষের তুলনায় নারীদের আ ক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে সেখানেও দেখা গেছে নারীরা বেশি আ ক্রান্ত হলেও পুরুষের মৃ ত্যুর হার বেশি।

দেশটিতে করোনাভাইরা সে আ ক্রান্ত হয়ে মা রা যাওয়াদের মধ্যে ৫৪ ভাগই পুরুষ। হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরা স বিষয়ক সমন্বয়কারী ড. দেবোরাহ বিরক্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইতালির দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই যে, সেখানে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, যে কোনো বয়সের নারীদের তুলনায় পুরুষদের মৃ ত্যুর হার বেশি। তিনি আরও বলেন, ইতালির এই তথ্য আমাদের সাহায্য করবে। এর ফলে কাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কিভাবে রাখতে হবে সে বিষয়ে আমরা আমেরিকার জনগণের সঙ্গে কথা বলতে পারব।

গ্লোবাল হেলথ ৫০/৫০-এর সহ-পরিচালক সারা হকস বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃ ত্যুর হার বেশি। এর আগেও সার্স এবং মার্সের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ম্যাকগভার্ন মেডি কেল স্কুলের রো গের সং ক্রমক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস অস্ট্রোস্কি।

পূর্বে ভাইরা সের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে হংকংয়ে সার্স ভাইরা সে পুরুষরা বেশি আক্রান হয়েছেন। মার্সের ক্ষেত্রেও পুরুষদের মৃ ত্যুর ঝুঁ কি বেশি ছিল। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, নারীদের রো গ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরা সের ক্ষেত্রে বেশ শক্তিশালী হয় যার ফলে তাদের মৃ ত্যুর কম।

ব্রিটেনে করোনা ভাইরা সে মঙ্গলবার আরও ৮৭ জনের মৃ ত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোভিড নাইনটিনে আ ক্রান্ত হয়ে ৬ জন বাংলাদেশি মা রা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃ তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২২ জনে।

লাফিয়ে বাড়া এ মৃ তের সংখ্যা নিয়ে হি’মশি’ম খাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। লা শ পু ড়িয়ে ফেলার প্রস্তাবনা করা হলেও তা শেষতক ব্রিটিশ সংসদে চূড়ান্ত হয়নি বিলটি।

ব্রিটেনে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে করোনা ভাইরা সের সং ক্রমণ ভ য়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশ ঙ্কা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। গত তিনদিনের মৃ ত্যুর হার পর্যালোচনা করলে হয়তো সেই আশ ঙ্কাই সত্যি হওয়ার পথে।

দেশটির এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য আবু মুমিন বর্ণনা করলেন, করোনায় আ ক্রান্ত এক বাংলাদেশির যন্ত্রণা ও আকুতির কথা। মৃ তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকলে প্রত্যেকের ক বরের ব্যবস্থা নিয়ে মা রাত্মক হিমশিম খেতে হবে ব্রিটিশ সরকারকে।

আর তাই, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে করোনা ভাইরা স বিলে লা শ পু ড়িয়ে ফেলার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছিল, তবে ব্রিটিশ মুসলিম এমপি নাজ শাহের বিরো ধিতায় তা ভেস্তে যায়। এখন পর্যন্ত কোভিড নাইনটিনে আ ক্রান্ত সর্বমোট ৬ জন বাংলাদেশি মা রা গেছে বলে নিহ তদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ব্রিটেনে অব্যাহত এ মৃ ত্যুর মিছিলে বাদ যাচ্ছে না তরুণ থেকে বৃদ্ধ কেউই। দিন যতই যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই ভ য়াবহ থেকে ভ য়ংকর হচ্ছে। প্রশ্ন শুধু এখন একটাই, কখন থামবে এই মৃ ত্যুর মিছিল।

পাঠকের মতামত:
Back to top button