Coronavirus

করোনার লক্ষণ দেখা দিলে উপুড় হয়ে শোবেন যে কা রণ!

করোনার লক্ষণ দেখা দিলে- সারা বিশ্ব কাঁপছে করোনা আ তঙ্কে। নীরবে এই ভাইরা সে আ ক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন মানুষ। এখনো পর্যন্ত উদ্ভাবন করা যায়নি কোনো ওষুধ। হাজার হাজার মানুষ মা রা যাচ্ছেন এই ভাইরা সে আ ক্রান্ত হয়ে। এমন অবস্থায় গবেষকরা বলছেন, করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই উপুড় হয়ে শোবেন। পারলে এভাবেই ঘুমান। এতে মিলবে সুফল।

চীনের ঝংডা হাস পাতালের গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনার লক্ষণ দেখা দিলে নিচের দিকে মুখ করে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কা রণ এই পদ্ধতিতে ঘুমানো ফুসফুসের জন্য ভালো। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র লাগানো অবস্থায় ১২ জন করোনা রো গীকে নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছে। সেই গবেষণায় দেখা যায়, এই পদ্ধতি ঘুমানো করোনা রো গীদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রফেসর হাইবো কিউ। তিনি জানান, করোনায় আ ক্রান্ত মা রাত্মক অবস্থার রো গীদের নিয়ে এই গবেষণাটি চালানো হয়েছে। এতে পাওয়া গেছে ফুসফুসের আচরণের বিবরণ। করোনা আ ক্রান্ত রো গী যদি উপুর হয়ে ঘুমান তাহলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে। তিনি বলেন, আশা করি এই গবেষণার ফল জানার পর মানুষ উপুড় হয়ে শো’য়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন।

গবেষণাটির সহ-রচয়িতা প্রফেসর চুন প্যান বলেন, উপুড় হয়ে শোয়ে ঘুমানো পদ্ধতি শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করতে পারে। যখন করোনা আ ক্রান্ত রো গী উপুড় হয়ে শো’ন তখন তার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে। তাই করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই উপুড় হয়ে শো’তে পারেন। এই বিষয়টি চিন্তা করে করোনা আ ক্রান্ত মা রত্মক অবস্থার রো গীর ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এদিকে, সারা বিশ্বে এখন করোনায় আ ক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৩৫ হাজার ছুঁই ছুঁই। আ ক্রান্তদের মধ্যে ১৯ হাজার ছয়শ সাত জন মা রা গেছেন। তবে সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার আটশ ৫৬ জন। এরমধ্যে শুধুই চীনেই সুস্থ হয়েছেন ৭৩ হাজার ছয়শ ৫০ জন। দেশটিতে করোনায় মোটা আ ক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার দু’শ ১৮ জন।

বিশ্বজুড়ে চলছে প্রা’ণঘা তী করোনাভাইরা সের তা ণ্ডব। প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় মৃ তের সংখ্যা। নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ কেউই ভাইরা সের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এবার করো’না নিয়ে বি স্ময়কর তথ্য দিলেন লন্ডনের এক নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনাভাইরা স এতটাই ছোঁ’য়োচে যে, এক করোনা রো গী থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ হাজার ব্যক্তি সং ক্রমিত হওয়ার ঝুঁ কি রয়েছে।

তিনি বলেছেন, এই ভাইরা স ইনফ্লু’য়েঞ্জা ভাইরা সের চেয়ে দ্বিগুণ ছোঁ’য়াচে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইনটেনসিভ কেয়ার মেডি’সিনের অধ্যাপক ড. হিউ মন্টগোমেরি এই তথ্য দিয়েছেন।

‘করোনাভাইরা স :কীভাবে নিজেকে আইসোলেশনে রাখবেন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ৪-কে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি যদি সাধারণ ফ্লুতে আ ক্রান্ত হয় তাহলে আমার দ্বারা বড়জোর এক দশমিক তিন থেকে এক দশমিক চারজন ব্যক্তি সং ক্রমিত হতে পারেন। এভাবে এই আ ক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের সঙ্গে মিশলে তাদের দ্বারা অন্যরা আ ক্রান্ত হবেন। এভাবে সং ক্রমিত সংখ্যা দশগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তার মানে দাঁড়াল আমার দ্বারা বড়জোর ১৪ জন আ ক্রান্ত হতে পারেন।’

প্রা’ণঘা তী করোনাভাইরা সের আ ক্রমণে এখন সবচেয়ে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও স্পেনের মাদ্রিদ শহর। বলা হচ্ছে, শহর দুটির শোচনীয় অবস্থা ইতালির লোম্বার্ডি শহরকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে প্রতিদিনই মৃ তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের দেশ ইংল্যান্ডে নতুন করে আরও ৮৭ জন মা রা গেছে। এদের মধ্যে ২১ জনই লন্ডনের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যে মৃ তের সংখ্যা ছয়গুণ বেড়েছে। মঙ্গলবারই মা রা গেছে ৭১ জন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক গবেষণা বলছে, লন্ডনে দুইদিন অন্তর করোনায় মৃ তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। যেখানে প্রতি তিনদিনে দ্বিগুণ হচ্ছে ব্রিটেনে।

ড. মন্টগোমেরি বলেছেন, এই ভাইরা স (করোনাভাইরা স) খুবই, খুবই ছোঁয়া’চে। নরমাল ফ্লুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘নরমাল ফ্লুতে যেভাবে এক ব্যক্তি থেকে তিন ব্যক্তি, ওই তিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিগতভাবে আরও তিন ব্যক্তি…এভাবে যখন ১০টি লেয়ার তৈরি করবে তখন আমি ৫৯ হাজার ব্যক্তিকে সং ক্রমণের জন্য দায়ী হব।’

এই অবস্থায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। একই সঙ্গে আ ক্রান্তদের হাস পাতালে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তবে সহজেই এই মহামা রির শেষ দেখছেন ড. মন্টগোমেরি। তিনি বলেন, ‘এটি দিনকে দিন ভ য়াবহ রূপ নিচ্ছে। আরও বিপুল সংখ্যক লোকের বি পর্যয় ডেকে আনছে।’

সামান্য অসুস্থতাবোধ করলেও অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন লন্ডনের এই নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, এতে আ ক্রান্ত হওয়া মানে আপনি শুধু নিজে আ ক্রান্ত হলেন না, আপনার সঙ্গে অন্যরাও জ’ড়িত।’

‘অনেকে করোনায় আ ক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো লক্ষণ না-ও প্রকাশ পেতে পারে (সুস্থবোধ করা) এবং প্রকাশ পেলেও সেটি খুব হালকা মনে হতে পারে। এ সময় তারা যদি আইসোলেশনে না থাকেন তাহলে তার দ্বারা এই ভাইরা স অন্যদের শ রীরেও ছড়িয়ে পড়বে’-যোগ করেন অধ্যাপক ড. হিউ মন্টগোমেরি।

পাঠকের মতামত:
Back to top button